করোনার কারনে বাংলাদেশের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য কতটুকু ক্ষতিকারক প্রভাব পড়েছে?
নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড ১৯) এর কারণে বাংলাদেশের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ে উল্লেখযোগ্য ভাবে ক্ষতিকারক প্রভাব পড়েছে।
বেগম রোকেয়াবিশ্ববিদ্যালয় ও ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া এর সমীক্ষা
ইয়াসির আরাফাত শুভ
নির্বহী সম্পাদক
দৈনিক প্রভাত বাংলায়
করোনাভাইরাস (কোভিড ১৯) মহামারীটি দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান হারে ছড়িয়ে পড়ার কারণে এটি সাধারণ জনগণ তথা প্রাপ্তবয়স্ক, পেশাদার সম্মুখে সেবা প্রদানকারী ব্যক্তিবর্গ এবং সর্বোপরি দেশে বিদ্যমান অন্যান্য রোগাক্রান্ত মানুষের মাঝে একধরণের আশঙ্কা ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান দুইটির এবারের গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল করোনাভাইরাস (কোভিড ১৯) সময়ে বাংলাদেশের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবের বিভিন্ন স্তর অনুসন্ধান করা। এ গবেষণাটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে একটি ক্রস সেকশনাল সমীক্ষা পরিচালনা করে যা ডঃ ওয়াজেদ রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউট, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এবং স্কুল অব সায়েন্স, ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া দ্বারা পরিচালিত হয়। ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে লক-ডাউন চলাকালীন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সং-মিশ্রিত এবং স্বপ্রণোদিত অনলাইন জরিপ পরিচালনা করা হয় যেখানে ১০,৯০০ জন উত্তরদাতাদের মধ্যে ১০,৬৬০ জন উত্তরদাতা প্রশ্নপত্র যথাযথভাবে সম্পন্ন করে।
গবেষণা ফলাফলে দেখা যায় যে, ১০,৬৬০ জন উত্তরদাতাদের মধ্যে পুরুষ (৪৯.১%), মহিলা (৫০.৪%) এবং অন্যান্য (০.৫%), ৬১.৬% এর বয়স ১৮ থেকে ২৮ বছর এবং ৫৬.৪% উত্তরদাতা পূর্ণকালীন বা খণ্ড কালীন কর্মে নিযুক্ত ছিলেন। বেশিরভাগ উত্তরদাতা (৩৩.৯%) ছিলেন ঢাকার বাসিন্দা। সামগ্রিকভাবে দেখা গেছে যে, উত্তরদাতাদের ৮০.২% পরিবারের সাথে থাকছেন এবং তাদের মতে সংকটকালে পরিবারের সাথে বসবাস করার করণে তারা কিছুটা হলেও স্বস্তি বোধ করছেন। উত্তরদাতাদের মধ্যে, ১,১৮৫ জন উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে তারা ইতোমধ্যে (কোভিড ১৯) পরীক্ষা করাতে সক্ষম হয়েছেন এবং এর মধ্যে ২৯.২০% এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। এ গবেষণায় দেখা গেছে যে, উত্তরদাতাদের ৯১.৪% এ মহামারী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের মধ্যে ৭২.৮% উত্তরদাতা অনিদ্রায় ভুগছেন, ৭১.৬% উত্তরদাতা এ মহামারী পরিস্থিতিতে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ, এবং ৬৩.৫% উত্তরদাতা ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা ও শঙ্কার কথা উল্লেখ করেন। ৬৮.২% উত্তরদাতাদের মতে এ মহামারী পরিস্থিতিতে সামগ্রিকভাবে তারা আতঙ্কিত এবং বেশিরভাগ (৫৯.৪%) উত্তরদাতা বলেছেন যে তাদের কাছে জীবন অর্থহীন হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য যে অনিদ্রা, বিরক্তি, বিমলতা, উদ্বিগ্ন অবস্থা, নেতিবাচক চিন্তা, আতঙ্ক এবং উত্তরদাতাদের হতাশা থেকে সহজেই দাবি করা যায় যে করোনাভাইরাস (কোভিড ১৯) মহামারীটি বাংলাদেশের মানুষের মানসিক অবস্থার উপর ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছে।
এ গবেষণাটির চিফ ইনভেস্টিগেটর ছিলেন বেরোবি ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও এবং সহযোগী ইনভেস্টিগেটর ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার এন্ড টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক ড. তানভীর আবির। সহযোগী গবেষক হিসেবে ছিলেন ডঃ কিংসলে এগো, সিনিয়র লেকচারার, স্কুল অব সায়েন্স, ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া, দেওয়ান মুহাম্মদ নূর -এ ইয়াজদানি, সহকারী অধ্যাপক, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার এন্ড টেকনোলজি ও জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর প্রভাষক ত্বহা হুসাইন সহ অন্যান্যরা।
সংবাদ প্রদান করেন
তহা হোসাইন
শিক্ষক
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর
বেগম রোকেয়াবিশ্ববিদ্যালয় ও ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া এর সমীক্ষা
ইয়াসির আরাফাত শুভ
নির্বহী সম্পাদক
দৈনিক প্রভাত বাংলায়
করোনাভাইরাস (কোভিড ১৯) মহামারীটি দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান হারে ছড়িয়ে পড়ার কারণে এটি সাধারণ জনগণ তথা প্রাপ্তবয়স্ক, পেশাদার সম্মুখে সেবা প্রদানকারী ব্যক্তিবর্গ এবং সর্বোপরি দেশে বিদ্যমান অন্যান্য রোগাক্রান্ত মানুষের মাঝে একধরণের আশঙ্কা ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান দুইটির এবারের গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল করোনাভাইরাস (কোভিড ১৯) সময়ে বাংলাদেশের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবের বিভিন্ন স্তর অনুসন্ধান করা। এ গবেষণাটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে একটি ক্রস সেকশনাল সমীক্ষা পরিচালনা করে যা ডঃ ওয়াজেদ রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউট, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এবং স্কুল অব সায়েন্স, ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া দ্বারা পরিচালিত হয়। ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে লক-ডাউন চলাকালীন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সং-মিশ্রিত এবং স্বপ্রণোদিত অনলাইন জরিপ পরিচালনা করা হয় যেখানে ১০,৯০০ জন উত্তরদাতাদের মধ্যে ১০,৬৬০ জন উত্তরদাতা প্রশ্নপত্র যথাযথভাবে সম্পন্ন করে।
গবেষণা ফলাফলে দেখা যায় যে, ১০,৬৬০ জন উত্তরদাতাদের মধ্যে পুরুষ (৪৯.১%), মহিলা (৫০.৪%) এবং অন্যান্য (০.৫%), ৬১.৬% এর বয়স ১৮ থেকে ২৮ বছর এবং ৫৬.৪% উত্তরদাতা পূর্ণকালীন বা খণ্ড কালীন কর্মে নিযুক্ত ছিলেন। বেশিরভাগ উত্তরদাতা (৩৩.৯%) ছিলেন ঢাকার বাসিন্দা। সামগ্রিকভাবে দেখা গেছে যে, উত্তরদাতাদের ৮০.২% পরিবারের সাথে থাকছেন এবং তাদের মতে সংকটকালে পরিবারের সাথে বসবাস করার করণে তারা কিছুটা হলেও স্বস্তি বোধ করছেন। উত্তরদাতাদের মধ্যে, ১,১৮৫ জন উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে তারা ইতোমধ্যে (কোভিড ১৯) পরীক্ষা করাতে সক্ষম হয়েছেন এবং এর মধ্যে ২৯.২০% এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। এ গবেষণায় দেখা গেছে যে, উত্তরদাতাদের ৯১.৪% এ মহামারী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের মধ্যে ৭২.৮% উত্তরদাতা অনিদ্রায় ভুগছেন, ৭১.৬% উত্তরদাতা এ মহামারী পরিস্থিতিতে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ, এবং ৬৩.৫% উত্তরদাতা ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা ও শঙ্কার কথা উল্লেখ করেন। ৬৮.২% উত্তরদাতাদের মতে এ মহামারী পরিস্থিতিতে সামগ্রিকভাবে তারা আতঙ্কিত এবং বেশিরভাগ (৫৯.৪%) উত্তরদাতা বলেছেন যে তাদের কাছে জীবন অর্থহীন হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য যে অনিদ্রা, বিরক্তি, বিমলতা, উদ্বিগ্ন অবস্থা, নেতিবাচক চিন্তা, আতঙ্ক এবং উত্তরদাতাদের হতাশা থেকে সহজেই দাবি করা যায় যে করোনাভাইরাস (কোভিড ১৯) মহামারীটি বাংলাদেশের মানুষের মানসিক অবস্থার উপর ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছে।
এ গবেষণাটির চিফ ইনভেস্টিগেটর ছিলেন বেরোবি ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও এবং সহযোগী ইনভেস্টিগেটর ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার এন্ড টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক ড. তানভীর আবির। সহযোগী গবেষক হিসেবে ছিলেন ডঃ কিংসলে এগো, সিনিয়র লেকচারার, স্কুল অব সায়েন্স, ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া, দেওয়ান মুহাম্মদ নূর -এ ইয়াজদানি, সহকারী অধ্যাপক, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার এন্ড টেকনোলজি ও জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর প্রভাষক ত্বহা হুসাইন সহ অন্যান্যরা।
সংবাদ প্রদান করেন
তহা হোসাইন
শিক্ষক
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর



Comments
Post a Comment