সরকারি প্রণোদনায় চলছে "যেমন খুশি তেমন সাজো"
নাবীন মাছুম,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।।
করোনার প্রাদুর্ভাব আমাদের কতকিছু দেখিয়েছে,দেখাচ্ছে বা দেখাবে। মানবিক হওয়ার কতো ফাঁকা বুলিই না ওড়াচ্ছি আমরা অথচ মায়ের জ্বর দেখে জঙ্গলে ফেলে এসেছি, পুত্রের করোনা সন্দেহে ঠাঁই মিলছে না বাড়িতে, অসুস্থ হলে বিধাতার পরে যাদের দ্বারে ধরনা দিয়েছি,সেই চিকিৎসকরাও সামান্য জ্বর কাঁশিতে পাষণ্ডের মতো দূরে ঠেলে দিচ্ছে, সামাজিক আর দলবদ্ধ জীবনযাপনে অভ্যস্ত মানব সমাজেও বেড়েছে শারীরিক আর সামাজিক দূরত্ব। স্বজনের মৃত্যুতে শেষবারের মতো মুখটি দেখছেনা আমরণ পাশে থাকা সঙ্গীরাও।
কথা ছিলো,করোনা পৃথিবীজুড়ে মানবিকতার অট্টালিকা তৈরি করবে।পরিবেশ-প্রকৃতি,অনুজীব কিংবা পরিবার পরিজনের প্রতি সহানুভূতি জেগে ওঠবে। হয়তো, হয়েছেও অনেকটা তবে তার সবটুকুই মনুষ্যত্বের তাড়নায়,কখনো বিবেকবান ভিক্ষুকের জমানো টাকায় আবার কখনো প্রতিষ্ঠিত না হওয়া ছাত্র সমাজের নিরলস চেষ্টায় অথচ যারা কিনা মানবসেবার গুরুদায়িত্ব নিয়ে বসে আছে সমাজের উচ্চ আসনে, তারাই কালসাপ হয়ে ওঠেছে সভ্যতার এই সংকটকালে।দেশের এই মহামারীকে পুঁজি করে গড়ে তুলছে ব্যক্তিগত ব্যাংক ব্যালেন্স।
সরকার শুরু থেকেই নির্দিষ্ট খাত বা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক সাধ্যমতো প্রণোদনা বা ত্রাণ সামগ্রী দিয়ে আসছেন কিন্তু যাদের জন্যে এই হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ,তারা কতটুকু সুবিধা পাচ্ছে? সর্বমহলে এই প্রশ্নের সত্যিকারের উত্তর "অতি নগণ্য "। তাহলে কোথায় যাচ্ছে এই প্যাকেজ?
শুনলাম নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত,উচ্চবিত্ত সবারই প্রাপ্য এমন সাহায্যও ঘোষণা দিয়েছে সরকার তবে তার বাস্তবায়ন কবে নাগাদ হবে বা কতটুকু হচ্ছে তার নথি আড়ালেই রয়ে গেছে।
এবার আসি, সম্প্রতি সরকার ঘোষিত ২৫০০ টাকার ঈদ প্যাকেজ এর প্রসঙ্গে।ব্যাপারটা এমন যে,
"আমি একবার বিল গেটস এর কাছে গিয়ে বললাম, আমি আপনার মেয়েকে বিয়ে করতে চাই, বিল গেটস বললো - কে তুমি?
আমি বললাম
"আমি বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট "। বিল গেটস বললো- ওহ আচ্ছা!
তারপর আমি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এর কাছে গিয়ে বললাম,আমি বিশ্বব্যাংক এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হতে চাই। তখন প্রেসিডেন্ট জিজ্ঞেস করলো- কে তুমি?
আমি বললাম যে"আমি তো বিল গেটস এর মেয়ের জামাই "
--ব্যস,হয়ে গেলো,দুটোই আমার."
যাদের হাত দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে অনুদানগুলো পৌঁছাবে,সেই নবাবতুল্য জনপ্রতিনিধিরাও এখন ঠিক একই খেলা খেলছে।
একদিকে অসহায় দরিদ্র মানুষের কাছে গিয়ে বলছে-আমরাই আপনাদের প্রতিনিধি, দেখভাল করার দায়িত্বও আমাদের "। অন্যদিকে, সরকারের তালিকায় আবার তারা নিজেরাই অসহায় সেজে বসে আছে।আর এভাবেই প্রণোদনার প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা যেন "যেমন খুশি তেমন সাজো" প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। যখন যেমন দরকার, তেমনই সেজে যাচ্ছে তারা।
এর ফলেই হয়তো ২০০ জনের নামের পাশে একই মোবাইল নম্বর থাকে। এমনও হয়েছে সরকারি ত্রাণ চুরি করে নিজের নামে শো-অফ করে চালিয়ে দিচ্ছে।
যে যার মতো করে লুটে নিচ্ছে গরিবের অধিকার।নেই কোনো জবাবদিহিতা।
ত্রুটির শিকড় হয়তো বহু গভীরে,সমাধানেও রয়েছে দীর্ঘসূত্রিতা।যাইহোক,সবাই সবার কর্মফল পাবে এটাই অন্তিম বাস্তবতা। তবে আমাদের দাবি হলো,প্রণোদনা হাজার কোটি না হয়ে শতকোটি হলেও চলবে বিনিময়ে এর সুষ্ঠু বাস্তবায়নটা চাই পুরোপুরি শতভাগ।।
করোনার প্রাদুর্ভাব আমাদের কতকিছু দেখিয়েছে,দেখাচ্ছে বা দেখাবে। মানবিক হওয়ার কতো ফাঁকা বুলিই না ওড়াচ্ছি আমরা অথচ মায়ের জ্বর দেখে জঙ্গলে ফেলে এসেছি, পুত্রের করোনা সন্দেহে ঠাঁই মিলছে না বাড়িতে, অসুস্থ হলে বিধাতার পরে যাদের দ্বারে ধরনা দিয়েছি,সেই চিকিৎসকরাও সামান্য জ্বর কাঁশিতে পাষণ্ডের মতো দূরে ঠেলে দিচ্ছে, সামাজিক আর দলবদ্ধ জীবনযাপনে অভ্যস্ত মানব সমাজেও বেড়েছে শারীরিক আর সামাজিক দূরত্ব। স্বজনের মৃত্যুতে শেষবারের মতো মুখটি দেখছেনা আমরণ পাশে থাকা সঙ্গীরাও।
কথা ছিলো,করোনা পৃথিবীজুড়ে মানবিকতার অট্টালিকা তৈরি করবে।পরিবেশ-প্রকৃতি,অনুজীব কিংবা পরিবার পরিজনের প্রতি সহানুভূতি জেগে ওঠবে। হয়তো, হয়েছেও অনেকটা তবে তার সবটুকুই মনুষ্যত্বের তাড়নায়,কখনো বিবেকবান ভিক্ষুকের জমানো টাকায় আবার কখনো প্রতিষ্ঠিত না হওয়া ছাত্র সমাজের নিরলস চেষ্টায় অথচ যারা কিনা মানবসেবার গুরুদায়িত্ব নিয়ে বসে আছে সমাজের উচ্চ আসনে, তারাই কালসাপ হয়ে ওঠেছে সভ্যতার এই সংকটকালে।দেশের এই মহামারীকে পুঁজি করে গড়ে তুলছে ব্যক্তিগত ব্যাংক ব্যালেন্স।
সরকার শুরু থেকেই নির্দিষ্ট খাত বা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক সাধ্যমতো প্রণোদনা বা ত্রাণ সামগ্রী দিয়ে আসছেন কিন্তু যাদের জন্যে এই হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ,তারা কতটুকু সুবিধা পাচ্ছে? সর্বমহলে এই প্রশ্নের সত্যিকারের উত্তর "অতি নগণ্য "। তাহলে কোথায় যাচ্ছে এই প্যাকেজ?
শুনলাম নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত,উচ্চবিত্ত সবারই প্রাপ্য এমন সাহায্যও ঘোষণা দিয়েছে সরকার তবে তার বাস্তবায়ন কবে নাগাদ হবে বা কতটুকু হচ্ছে তার নথি আড়ালেই রয়ে গেছে।
এবার আসি, সম্প্রতি সরকার ঘোষিত ২৫০০ টাকার ঈদ প্যাকেজ এর প্রসঙ্গে।ব্যাপারটা এমন যে,
"আমি একবার বিল গেটস এর কাছে গিয়ে বললাম, আমি আপনার মেয়েকে বিয়ে করতে চাই, বিল গেটস বললো - কে তুমি?
আমি বললাম
"আমি বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট "। বিল গেটস বললো- ওহ আচ্ছা!
তারপর আমি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এর কাছে গিয়ে বললাম,আমি বিশ্বব্যাংক এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হতে চাই। তখন প্রেসিডেন্ট জিজ্ঞেস করলো- কে তুমি?
আমি বললাম যে"আমি তো বিল গেটস এর মেয়ের জামাই "
--ব্যস,হয়ে গেলো,দুটোই আমার."
যাদের হাত দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে অনুদানগুলো পৌঁছাবে,সেই নবাবতুল্য জনপ্রতিনিধিরাও এখন ঠিক একই খেলা খেলছে।
একদিকে অসহায় দরিদ্র মানুষের কাছে গিয়ে বলছে-আমরাই আপনাদের প্রতিনিধি, দেখভাল করার দায়িত্বও আমাদের "। অন্যদিকে, সরকারের তালিকায় আবার তারা নিজেরাই অসহায় সেজে বসে আছে।আর এভাবেই প্রণোদনার প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা যেন "যেমন খুশি তেমন সাজো" প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। যখন যেমন দরকার, তেমনই সেজে যাচ্ছে তারা।
এর ফলেই হয়তো ২০০ জনের নামের পাশে একই মোবাইল নম্বর থাকে। এমনও হয়েছে সরকারি ত্রাণ চুরি করে নিজের নামে শো-অফ করে চালিয়ে দিচ্ছে।
যে যার মতো করে লুটে নিচ্ছে গরিবের অধিকার।নেই কোনো জবাবদিহিতা।
ত্রুটির শিকড় হয়তো বহু গভীরে,সমাধানেও রয়েছে দীর্ঘসূত্রিতা।যাইহোক,সবাই সবার কর্মফল পাবে এটাই অন্তিম বাস্তবতা। তবে আমাদের দাবি হলো,প্রণোদনা হাজার কোটি না হয়ে শতকোটি হলেও চলবে বিনিময়ে এর সুষ্ঠু বাস্তবায়নটা চাই পুরোপুরি শতভাগ।।



আবারো মেধাবীদের মত পরিচয় দিলি
ReplyDelete😍
DeleteTnx..Masum.
ReplyDelete😍
ReplyDelete