কিশোরগঞ্জে সাব-রেজিষ্টারের বদলির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন। দৈনিক প্রভাত বাংলা

কিশোরগঞ্জ জেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. আবু তালেবের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছারিতা ও অনিয়ম-দুর্নীতির  অভিযোগ এনে তার বদলি এবং কিশোরগঞ্জে দলিল লেখকরা সদর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি-সম্পাদকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) থেকে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন  কিশোরগঞ্জ জেলা দলিল লেখক সমিতির ডাকা ধর্মঘটের কারণে। এছাড়া সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দলিল লেখক সমিতি এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সমবায় কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করেছে। এতে সদর দলিল লেখক কমিটির সদস্য মো. মকবুল হোসেন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এসময় জেলা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি আবুল হাশেম, সদরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টা কমিটির সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক, সদস্য জুবায়ের হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, জেলা রেজিস্ট্রার মো. আবু তালেব জেলায় যোগদানের পর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘুষ ও দুর্নীতির পাহাড় বানিয়ে তুলেছেন। তিনি জেলার ১৩টি উপজেলার রেজিস্ট্রি অফিস থেকে প্রতি দলিলে ২০০ টাকা হারে মাসে ২০ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন। এছাড়া রেকর্ডরুম হতে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন অফিস ভিজিট ও কর্মচারীগণের বদলি বাবদ মোটা অংকের উৎকোচ নেন। তার নির্দেশেই সদর সাব-রেজিস্ট্রার এম নফিয বিন যামান রেজিস্ট্রিসহ অন্যান্য কাজের জন্য বচসার পরেও জোরপূর্বক অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে দলিল রেজিস্ট্রি করেন। তিনি গত ৭ই জুন দলিল লেখকদের এ বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করলে সমিতির নেতৃবৃন্দ মিটিং করে তা মানতে অস্বীকার করেন।

বিষয়টি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ঘটনা ঘটলেও সমিতির নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে সাব-রেজিস্ট্রার এম নফিয বিন যামানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এনে তিনি ওইদিন থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সদর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মো. মহিউদ্দিন বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক মো. ফুরকান উদ্দিন খান মানিকসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।এ অবস্থায় যৌক্তিক দাবিতে কিশোরগঞ্জ দলিল লেখক সমিতি বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) থেকে কলম বিরতি ও ধর্মঘট পালন করছে।

সংবাদ সম্মেলনে তারা নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও জেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. আবু তালেবের বদলি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এদিকে ঘুষ-দুর্নীতিসহ অন্যান্য বিষয়ে জেলা সাব-রেজিস্ট্রার আবু তালেবের কাছে জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন। গত জানুয়ারি মাসে এ জেলায় তিনি যোগদান করেছেন উল্লেখ করে জানান, তার দায়িত্ব পালনের সময়েই চলছে করোনা পরিস্থিতি। তাই এই সময়ে কোন ধরনের দুর্নীতি হওয়ার বিষয়টি একেবারেই কাল্পনিক।


প্রতিবেদক

মোঃ রবিউল ইসলাম 

সহকারী সম্পাদক ও

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি  

দৈনিক প্রভাত বাংলা 

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

Comments