অক্সফোর্ডের করোনা ভ্যাকসিন: সুখবর আসতে পারে আজ। দৈনিক প্রভাত বাংলা

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় দুই শর মতো ভ্যাকসিন বা টিকা আবিষ্কারের জোর তৎপরতা চলছে। এর মধ্যে ২১টির মতো টিকা রয়েছে মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে। কোনো কোনো প্রচেষ্টা প্রায় চূড়ান্ত ধাপ পর্যন্ত এগিয়ে গেছে। এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। তাঁদের আবিষ্কৃত এই টিকা মানবদেহে প্রয়োগে যে প্রাথমিক ফল পাওয়া গেছে, সেই তথ্য সোমবার (২০ জুলাই) প্রকাশ করা হতে পারে। বিজ্ঞান সাময়িকী ল্যানসেটে প্রকাশ করা হবে প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের ফলাফলের বিস্তারিত।

অক্সফোর্ডের এ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ব্রিটিশ ওষুধ কম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা। অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার পক্ষ থেকে আজ বিশ্ববাসীর জন্য ‘বড় ধরনের সুসংবাদ’ আসতে পারে, এমন আলোচনা চলছে কয়েক দিন ধরে। অক্সফোর্ডের গবেষকরা জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবরে বা বছরের শেষ দিকে তাঁরা মানুষের হাতে করোনার টিকা তুলে দিতে পারবেন বলে আশা করছেন।

অক্সফোর্ডের এই টিকার তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল চলছে ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকায়। তৃতীয় ধাপের ফলাফল বা কার্যকারিতার বিষয়টি আগামী আগস্ট মাসের শেষ দিকে জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। পরীক্ষায় একবার সফলতার প্রমাণ পাওয়া গেলেই নিয়ন্ত্রকরা জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের জন্য টিকার অনুমোদন দিয়ে দেবে। অর্থাৎ অক্টোবরের মধ্যেই যারা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রোগী তারা টিকাটি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

করোনার গোত্রীয় ভাইরাসের ক্ষেত্রে আগে যে ওষুধ কার্যকর হয়েছিল, এর ওপর ভিত্তি করেই অধ্যাপক সারাহ গিলবার্টের নেতৃত্বে অক্সফোর্ডের গবেষকরা টিকা তৈরির কাজ করছেন। গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাজ্যে মানবদেহে এই টিকার প্রথম ধাপের ট্রায়াল শুরু হয়। প্রথমে দুজনের দেহে প্রয়োগ করা হয়েছিল টিকাটি। তাদের একজন এলিসা গ্রানাটো, যিনি নিজেও একজন বিজ্ঞানী। প্রথম পর্যায়ে কমসংখ্যক মানুষের শরীরে টিকার পরীক্ষা করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে এক হাজারের বেশি মানুষের দেহে প্রয়োগ করা হয় এই টিকা। এই দুই পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্টই ‘ইতিবাচক’ বলে খবর বেরিয়েছিল। যদিও প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

প্রতিবেদক
হাসমীর হোসেন
উপ-সম্পাদক
দৈনিক প্রভাত বাংলা
২০ জুলাই,২০২০; সোমবার

Comments