২১ এপ্রিল রাতে বছরের দ্বিতীয় উল্কাবৃষ্টি! দেখা যাবে বাংলাদেশ থেকে
প্রতিবেদক : জান্নাতুল নায়ার, আইটি সম্পাদক ; দৈনিক প্রভাত বাংলা।
হারকিউলিসের নক্ষত্রপুঞ্জ
২১ এপ্রিল পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে লিরিডস উল্কাখন্ড। দেখা যাবে বাংলাদেশ থেকেও।প্রতি বছরই এপ্রিলের (১৬-২৫ তারিখের মাঝে) বছরের দ্বিতীয় উল্কাবৃষ্টি দেখা যায়। এপ্রিলের উল্কাবৃষ্টিকে বলা হয় ‘Lyrids Meteor Shower’। এ উল্কাপিন্ডগুলোর বেগ হয়ে থাকে ঘন্টায় ২১ মিটার। প্রতি ঘন্টায় প্রায় ১৫ টি উল্কাপিন্ড দৃশ্যমান হতে পারে। পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা এ উল্কাবৃষ্টিগুলো সৃষ্টি হয়েছে C/1861 G1 (Thatcher) নামক ধূমকেতুর ভগ্নাবশেষ থেকে।
বাংলাদেশ থেকে কখন কোন দিকে দেখা যাবে?
চীন থেকে সবচেয়ে ভাল ভিউ পাওয়া গেলেও বাংলাদেশ, ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে অনেকাংশে দৃশ্যমান হবে এ উল্কাবৃষ্টি। সেই সঙ্গে ২৩ তারিখ অমাবস্যা হওয়ায় ২১, ২২ তারিখ রাতেও আকাশে প্রায় পূর্ণ অন্ধকার থাকবে, এতে স্পষ্টভাবে দেখায় অসুবিধা হবেনা আশা করা যায়।
২১ তারিখ (মঙ্গলবার) রাত ৯ টা থেকে ভোর ৬ টা পর্যন্ত দেখা যেতে পারে এ উল্কাবৃষ্টি। তাকাতে হবে উত্তর ও পূর্ব আকাশের মাঝখানে দিগন্তরেখা বরাবর। সবথেকে ভাল হয় হারকিউলিস নক্ষত্রপুঞ্জের দিকে। এ নক্ষত্রপুঞ্জের দিকেই শুরুর দিকে বেশ কয়েকটা উল্কাপাত দেখা যেতে পারে। এ নক্ষত্রপুঞ্জটি ২১ তারিখ রাত ৯ টা নাগাদ দিগন্তরেখার ঠিক উপরের দিকে অবস্থান করবে। নিচে হারকিউলিস নক্ষত্রপুঞ্জের একটি ছবি দেয়া হল।

উল্কা ও উল্কাবৃষ্টি কি?
রাতের মেঘমুক্ত আকাশে অনেক সময় নক্ষত্রের মতো ছোট উজ্জল বস্তু পৃথিবীর দিকে ছুটে আসতে দেখা যায় আর এই নক্ষত্রগুলকে বলা হয় উল্কা। শুধু যে ধূমকেতুর ভগ্নাবশেষ থেকে উল্কাবৃষ্টি সৃষ্টি হয় তা নয়, মহাকাশে অসংখ্য জড়বস্তু ঘুড়ে বেড়ায় যা দ্বারা উল্কাবৃষ্টি সৃষ্টি হতে পারে।
পৃথিবীর মাধ্যাকর্যণ (অর্থাৎ অভিকর্ষ) বলের প্রভাবে প্রচন্ড গতিতে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে এসব বস্তু। পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করার পর বায়ূর সংস্পর্শে এসে বায়ূর সাথে ঘর্ষনের ফলে এরা জ্বলে উঠে। বেশীরভাগ উল্কাই মহাশূন্যে কিংবা বায়ুর সাথে ঘর্ষনের ফলে জ্বলে ছাই হয়ে যায়। এদের মধ্যে যেগুলো পৃথিবীতে আসে সেগুলোকে উল্কাপিন্ড বলে।
প্রত্যেক বছরই পৃথিবীপৃষ্ঠে উল্কাপাত হয়ে থাকে। প্রায় ১৫০০ মেট্রিক টন উল্কাপিন্ড প্রতিবছর পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে। উল্কাপিন্ড কোণাবিহীন এবং নানা আকারের হয়ে থাকে। বেশীরভাগের রং সাধারনত কালো। উল্কা যখন পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ তখন ই একে দেখা যায়। বায়ুমন্ডলের মেসোস্ফিয়ার স্তরে এদেরকে দেখা যায়।
২১শে এপ্রিল, ২০২০।


Comments
Post a Comment