ফতুল্লায় গার্সেন্টস শ্রমিক ছাটাই ও চাকুরী হারানোর ভয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

ফতুল্লায় গার্সেন্টস শ্রমিক ছাটাই ও চাকুরী হারানোর ভয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ।

দিপন তালুকদার
নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদকঃ
লকডাউনের মধ্যে করোনার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত নারায়ণগঞ্জ জেলায় বেশ কিছু গার্মেন্টস (পোশাক কারখানা) খোলা হয়েছে। কারখানাগুলোতে অল্প সংখ্যক শ্রমিক নিয়ে সীমিত পরিসরে কাজ শুরু করেছেন মালিকরা। শ্রমিকরাও চাকরি হারানোর ভয়ে ঝুঁকি নিয়ে তাদের কর্মস্থানে যোগদান করেছেন। তবে বেশীরভাগ শ্রমিকরা তাদের বকেয়া বেতন ভাতা নিতে কর্মস্থলে যোগদান করেছেন বলে জানায় তারা। মার্চ মাস থেকে তারা বেতন পাননি সেই বেতন পরিশোধ না করে তাদের মালিকরা তাদের গার্মেন্টসে আসতে বলেছেন।

এদিকে শ্রমিক ছাটাইয়ের প্রতিবাদে ফতুল্লার গাবতলীতে ঢাকা- নারায়নগঞ্জ পুরাতন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নিউ আমেনা ফ্যাশন প্রিন্ট টেক্স নামক একটি পোষাক তৈরীর কারখানার শ্রমিকরা।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাসদাইর গাবতলীতে অবস্থিত নিউ আমেনা ফ্যাশন প্রিন্ট টেক্স নামক গার্মেন্টসের সামনে শ্রমিকরা ঢাকা- নারায়নগঞ্জ পুরাতন  সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয়।
করোনা পরিস্থিতির কারণে সড়কে জরুরি সেবা ছাড়া অন্য যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে শ্রমিকদের এ বিক্ষোভের ফলে রাস্তার সেসব যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে জটলা সৃষ্টি হয়।পরে পুলিশ এসে সড়ক থেকে শ্রমিকদের অনত্র সরিয়ে দেয়। সড়ক অবরোধ করে ফতুল্লায় ফের শ্রমিকদের বিক্ষোভ

বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা জানায়,কোনো প্রকার কারন ছাড়াই মার্চ মাসের বেতন দিয়ে ১৭৪ জন শ্রমিক কে চাকুরী থেকে না করে দেয়।এমনিতেই লক ডাউনের কারনে কারখানা বন্ধ ছিলো। তার উপর আবার কোনো কারন ছাড়াই চাকুরী থেকে না করে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় তাদের কে না খেয়ে মরতে হবে। উল্লেখ্য যে এর আগে ও একাধিকবার এই একই কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা গিয়ছিলো। পুলিশের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক ছেড়ে দিতে অনুরোধ করা হলে শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে গার্মেন্টসের গেইটে অবস্থান নেয়। শ্রমিকদেরকে মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। পরিশোধ করার সময় কিছু শ্রমিক কে ছাটাই করা হয়েছিলো।আর শ্রমিক ছাটাই করার প্রতিবাদেই আজ তারা বিক্ষোভ করে।পরে মালিক পক্ষের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।

বিকেএমইএ এর সদস্য প্রতিষ্ঠানের মালিকরা দাবি করেছেন নিয়ম নীতি অনুযায়ী ও যথাযথ স্বাস্থ্য বিধি মেনে পোশাক কারখানাগুলো সীমিত পরিসরে চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে জেলার সীমিত পরিসরে খোলা গার্মেন্টসগুলোতে স্বাস্থ্য বিধির মানার তেমন বালাই দেখা যায়নি। নামমাত্র হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও পায়ে স্প্রে করে শ্রমিকদের কারখানায় প্রবেশ করানো হচ্ছে।

মালিক সংগঠনগুলো জানান, এখন সীমিত আকারে খোলা হয়েছে।শ্রমিকদের মোবাইল ব্যাংকি ও বিক্যাশের মাধ্যমে বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে। ২ মে থেকে পোশাক কারখানাগুলো পুরোপুরি খোলা হবে। তবে দূর দূরান্ত খেকে বসবাস করা শ্রমিকদের কাজে আসতে নিষেধ করেছেন বলে জানান তারা।

পন্য তৈরি থেকে শুরু করে ডেলিভারী পর্যন্ত বেশ কয়েকজন শ্রমিকের হাতে ধরে করা হয়। কারখানার ভিতর শ্রমিকদের সামাজিক দূরত্ব অনিশ্চয়তার ভিতর থেকে যাচ্ছে। পোশাক কারাখানার লক্ষাধিক শ্রমিকদের মধ্যে যদি দশ জনও করোনা আক্রান্ত হয়ে থাকে তাহলে নারায়ণগঞ্জে করোনায় মৃত ও আক্রান্তের মিছিল দীর্ঘ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Comments