।।।।। কুরআন পাঠের ফযীলতঃ।।।।।
মহাগ্রন্থ আল-কুরআন হলো মানব জাতির হিদায়াতের আলোক বর্তিকা।ইসলামি আকিদা-বিশ্বাস,আমল-আখলাক,মুয়ামালাত-মুয়াশারাত,জীবন-দর্শন,তাহযীব-তামাদ্দুন,সভ্যতা-সংস্কৃতি,জ্ঞান-বিজ্ঞান,আচার-আচরণ,শিক্ষা-দিক্ষা,নীতি-নৈতিকতা,আদর্শ-অনুপম,ভোগ-বিনোদন,রাজনীতি-অর্থনীতি সব কিছুর মূল ভিত্তি হচ্ছে পবিত্র কুরআন।ইসলামি জীবন ব্যবস্থা বাস্তবায়নে কুরআনের কোনো বিকল্প নেই।কুরআন হলো বিশ্ব মানবতার জন্য (complete code of life)অর্থাৎ শ্বাশত ও পূর্ণ জীবন বিধান।মহান আল্লাহ তা'য়ালা মানব জাতির ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির জন্য সুদীর্ঘ তেইশ বছরে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট মহা মানব বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত নবুওয়াতের আকাশের সূর্য মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর এই পবিত্র কুরআন নাযিল করেছেন।কুরআন হলো চিরন্তন আলোর উৎস। অতএব কোনো মানুষ যদি দৃঢভাবে পবিত্র কুরআনকে আঁকড়ে ধরে,সে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না এবং তাকে কেউ গোমরাহও করতে পারবে না এজন্য প্রতিটি মানুষের উচিত আল্লাহ তা'য়ালার শ্বাশত বিধান আল-কুরআন নিয়মিতভাবে পাঠ করা এবং নিজের জীবনে তা বাস্তবায়ন করা।।
পবিত্র কুরআন সম্পর্কে কিছু আয়াতঃ
আলিফ-লাম-মীম এটাতো এমন একটি কিতাব,যাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।এটি মুত্তাকীদের জন্য পথ প্রদর্শক। (সূরা বাকারা আয়াত নং ১-২)
আলিফ-লাম-মীম-রা ;এগুলো কিতাবের আয়াত,আর তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে তোমার উপর যা কিছু নাযিল হয়েছে তা সত্য,কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনে না।(সূরা রা'দ আয়াত নং ০১
আর যখন কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা হয় তখন তোমরা কান লাগিয়ে শুন এবং চুপ থাকো,যাতে তোমাদের উপর রহমত বর্ষিত হয়।(সূরা আ'রাফ আয়াত নং ২০৪)
আর আপনি যখন কুরআন পাঠ করবেন,তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নওকট আশ্রয় প্রার্থনা করুন।(সূরা নাহল আয়াত নং ৯৮)
ইহা এক মহা সম্মানিত কুরআন,যা লিপিবদ্ধ আছে সুরক্ষিত কিতাবে।পবিত্রতা ব্যতীত কেউ তা স্পর্শ করবে না।তা সৃষ্টিকুলের প্রভুর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত।তবে কি তোমরা এই বাণী তুচ্ছ গণ্য করছ?(সূরা ওয়াকিয়া আয়াত নং ৭৭-৮৭)
মুমিন তো তারাই,আল্লাহর কথা স্মরণ হওয়া মাত্রই যাদের অন্তরসমূহ কেঁপে উঠে।আর যখন তাদের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করা হয়,তখন তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়।এবং তারা তাদের রবের উপরই ভরসা করে।(সূরা আনফাল আয়াত নং ০২)
তারা রাত্রে আল্লাহ তা'য়ালার আয়াতসমূহকে তিলাওয়াত করে এবং সিজদায় লুটে পড়ে(সূরা আল-ইমরান আয়াত নং ১১৩)
পবিত্র কুরআন সম্পর্কে কিছু হাদীসঃ
হযরত উসমান রাযি.থেকে বর্ণিত,নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন ঃতোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি, যে কুরআন মাজীদ শিক্ষা করে এবং শিক্ষা দেয়।(বুখারী হাদীস নং ৪৬৬১)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি.থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃতুমি (কম পক্ষে)মাসে এক খতম কুরআন পাঠ কর।(সহীহ বুখারী হাদীস নং ৪৬৮৯)
হ্যরত সুফিয়ান রাযি.থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃযে ব্যক্তি রাত্রে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত তিলাওয়াত করবে,তাহলে তার (জান-মালের)জন্য যথেষ্ট হবে।(সহীহ বুখারী হাদীস নং ৪৬৮৬)
হযরত আয়েশা রাযি.থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃযে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে 'তো'-'তো'করে(অর্থাৎ ঠেকে ঠেকে)এবং এজন্য তার কাছে কঠিন মনে হয়,তবে সে দ্বিগুন সাওয়াব পাবে।(সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১৭৩২)
ঠেকে ঠেকে কুরআন পড়ার ফযিলত
মোল্লা আলী কারী রহ.বায়হাকী ও ত্বাবরানী শরীফের একটি বরাত দিয়ে উল্লেখ করেন যে,যারা কুরআন শরীফ হিফজ করার চেষ্টা করে, কিন্তু বার বার চেষ্টা করয় সত্বেও ইয়াদ করতে পারে না,আবার পড়াও ছাড়েনা আল্লাহ তা'য়ালা তাদেরকে কুরআনে হাফেজদের সাথে হাশর করাবেন।এটাই তাদের পুরস্কার।(মিরকাত)
হযরত আয়েশা রাযি.থেকে বর্ণিত,তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাতে ঘুমানোর পূর্বে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে দু’হাত একত্র করে ফুঁক দিয়ে যতদূর সম্ভব সমস্ত শরীর মাসেহ করতেন। (তিনবার এরুপ করতেন)(সহীহ বুখারী হাদীস নং ৪৬৫২)
বিঃদ্রঃ ১ঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যদি কোনো ব্যক্তি প্রত্যহ সকাল-সন্ধায় তিনবার সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করে, তাহলে সে ইহা সর্ব বিষয়ে যথেষ্ট হবে।অর্থাৎ সকল প্রকার বসলা-মুসীবত থেকে নিরাপদ থাকবে।(মিশকাত শরীফ ১৮৮পৃষ্ঠা)
বিঃদ্রঃ ২ঃ প্রত্যেক মায়ের উচিৎ তার নবজাত শিশুকে প্রতিদিন সকাল-সন্ধায় এই সূরাগুলো তিনবার করে পাঠ করে তার শরীরে ফুঁক দপয়া।এর দ্বারা জ্বীন-ইনসানের যাবতীয় অনিষ্ট থেকে সে মাহফুজ থাকবে।
জিহাদুল ইসলাম সুমন
ভি. পি. বাহাদুরপুর শরীয়াতিয়া কামিল মাদরাসা
০১৭১০২৫২৭৫৯



Comments
Post a Comment