৪নং নগর ইউনিয়নে অবাধে চলাচল করছে বহিরাগত শ্রমিকরা।

প্রনয় চন্দ্র সরকার জিৎ
জেলা প্রতিনিধিঃ
  বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়নশীল দেশ। কৃষি ছাড়া মেরুদন্ডহীন বাংলাদেশ। বৈশাখ মাসে কৃষকের মুখে মৃদু হাঁসির উঁকি দেখা মেলে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কৃষকেরা ক্লান্তহীন কাজ করে যায় নিরন্তর। কৃষকের গোলা ভরা ধান সম্পূর্ণ উঠলেই যথার্থ সুখী হয়। করোনাভাইরাসের কারণে অন্য বছরের ন্যায় স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছে না জনসাধারণ।লক ডাউনে চলছে সারা বিশ্ববাসী।

নেত্রকোণায় খালিয়াজুরী উপজেলা  ৪নং নগর ইউনিয়নে স্থানীয় জনসাধারণ সরকারের বিধি মোতাবেক দ্বায়িত্বের সাথে পালন করলেও পালন করছে না বহিরাগত ধান কাটার শ্রমিকরা। এরূপ অভিযোগ পাওয়া যায়।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বহিরাগত শ্রমিকরা গ্রামের টিউওয়েল থেকে খাবার পানি নিচ্ছে অবাধে। নির্দিষ্ট স্নানাগার থাকাসত্ত্বেও অবাধে স্নান করছে দলবদ্ধ শ্রমিকরা। এতে সমস্যা হচ্ছে গ্রামের পুরুষ তথা মেয়ে ছেলের।

স্থানীয় সুত্রে আরো জানা যায়, বহিরাগত শ্রমিকদের অবাধে চলাফেরা মানা করলে। উক্ত শ্রমিকরা বলে যে মহাজন আমাদের নাম সহ সমস্ত তালিকা থানায় জমা দিয়েছেন। সুতরাং আমাদের কোন সমস্যা নেই। আমরাও মানুষ আপনারাও মানুষ। যার যেদিন কিছু একটা হওয়ার হবেই। এর চেয়ে ভাল আল্লাহ আল্লাহ করেন।

সারাবিশ্ব যেখানে করোনাভাইরাসে আতংকে আতংকিত। সত্যিই কী আদৌ গ্রামের মহাজনরা ধান কাটার প্রত্যেক শ্রমিকের তালিকা থানায় জমা দিয়েছেন? আদৌ কী উক্ত শ্রমিকরা সরকারের নিয়মরীতি সঠিকভাবে পালন করছেন? নাকী উনারা গা ঘেষাঘেষি করে রাত্রে ঘুমোচ্ছেন? যদিও সবার নামের তালিকা থানায় দেওয়া হয় তবেই কি উক্ত শ্রমিকদের শরীরে কোনরূপ করোনাভাইরাস নেই? অসংখ্য অসংখ্য প্রশ্ন করছেন এলাকার জনসাধারণ।

বাংলাদেশের বৃহৎ বৃহৎ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান যেখানে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত বন্ধ। আমি সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি - যদিও হাওর এলাকার কৃষক আমরা। সম্পূর্ণ সুষ্টু ভাবে ধানের ফসল তুলাটা আমাদের জরুরী। কারণ আমাদের সারা বছরে মাত্র একটা ফসলই ঘরে তুলি।এটার উপরই সম্পূর্ণ জীবিকা নির্বাহ করে থাকতে হয়। সরকার বর্তমান মহামারি ক্লান্তিলগ্নে আমাদের জন্যে যা যা করছেন  আমরা অত্যান্ত খুশি। তবু আমাদের প্রত্যেকেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিজ নিজ কাজ করে যাচ্ছি । কিন্তু দেখুন বহিরাগত শ্রমিকের অবাধে চলাচলে সত্যি আমরা আজ আতংকিত।  সেখানে অমন অসচেতন উপায়ে হাওর এলাকার ধানের ফসল উঠা কি যুক্তিযুক্ত। যদিও প্রতিটি এলাকায় সরকার যান্ত্রিক ধান কাটার মেশিন দিয়েছেন তথা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বহিরাগত শ্রমিকদের কাজ করার অনুমোদন দিয়েছেন। উনারা কী আদৌ সরকারের দেওয়া নিয়ম যথারীতি পালন করছেন? এছাড়াও যে যে ব্যক্তি ঢাকা থেকে নিজ নিজ বাড়িতে আসছে উনারাও হোম কোয়ারেনন্টাইন কেহ মানছে কেহ মানছে না। সত্য বলতে আজ আমরা হাওর এলাকাবাসী ভয়ংকর ঝুকিতে বসবাস করছি। আমরা জানি, উপজেলা প্রশাসকগন আক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দ্বায়িত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।  এ বিষয়ে আরো জোরালো তদন্ত নিতে উর্ধতম উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি বিনীতভাবে কামনা করছি। কথাগুলো বলেছেন স্থানীয় এক সেচ্চাসেবী।

Comments