শায়েস্তাগঞ্জের হাটে-বাজারে প্রতি বিকেলে মানুষের ভীড় ❗

শায়েস্তাগঞ্জের হাটে-বাজারে প্রতি বিকেলে মানুষের ভীড় ❗
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি এনামুল হক আরিফঃ
Email: tasfia373@gmail.com 
দৈনিক প্রভাত বাংলা


ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ মানছে না হবিগঞ্জের, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। শুধু তাই নয়, শায়েস্তাগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার দোকানপাট খোলা রাখা হচ্ছে। বিনা কারণে বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তার মোড়ে আড্ডা দিচ্ছে সেখানকার বাসিন্দা সহ তরুণ-যুবা থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত। 

গত মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে শায়েস্তাগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। নুরপুর ও ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়নের হাট বাজারসহ অলিগলে ঘুরে দেখা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বাসা থেকে বের না হতে সরকারি ভাবে নির্দেশনা দেয়া হলেও, তা উপেক্ষা করে এসব এলাকার বাসিন্দা বাসা থেকে বের হয়ে ঘুরাফেরা করছে। অনেকে আবার দল বেঁধে প্রধান সড়কের আশেপাশে আড্ডা দিচ্ছে। কেউ কেউ আবার পুলিশের আনাগোনা দেখলে সরে পড়ছেন, পুলিশ চলে গেলে আবারও জড়ো হচ্ছে। সামাজিক দূরত্বও মানছে না তারা। তাদের অনেকের মুখে শুধু মাস্ক পরা।

এলাকার অলিগলিতে সন্ধ্যার পরও দোকানপাট খোলা রাখা হচ্ছে। সেসব দোকানে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কোনো দোকান অর্ধেক খোলা রেখে মালামাল বিক্রি করতে দেখা গেছে। উলুহর সড়কে সন্ধ্যার পর খোলা একটি কসমেটিকের দোকানে বসা দোকানদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ বাঁধা দেয় না তাই দোকান খোলা রাখা হয়েছে।

সন্ধ্যায় বিশাউড়া সড়কের বটগাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা একদল তরুণকে আড্ডা দিতে দেখা যায়। কেন বাইরে রয়েছেন জানতে চাইলে তারা বলেন, সারাদিন বাসায় ছিলাম, বিকেলের পর অনেকে ঘরের বাইরে বের হয়ে একটু আড্ডা দিচ্ছেন। বাসার বাইরে না আনার নির্দেশনা জানেন কিনা জানতে চাইলে তারা বলেন, জানি, কিন্তু সারাদিন তো আর বাসায় থাকতে ভালো লাগে না তাই বের হয়েছি। কিছুক্ষণ পরে বাড়িতে যাবেন বলে জানান।

এই এলাকায় রয়েছে তিনটি বাজার। অলিপুর, কেশবপুর, পুরাইকলা, সুতাং, বাছিরগঞ্জ বাজার।  এসব বাজারে মানুষ দিনরাত বাইরে ঘুড়াফেরা করে থাকেন। এ কারণে গভীর রাত পর্যন্ত এখানের দোকানপাট খোলা রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ এলাকার একাধিক বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ মানুষ অসচেতন ভাবে চলাফেরা করে থাকে। দিনরাত তারা ঘরের বাইরে থাকছে। এদের কারণে এ এলাকায় করোনাভাইরাস সংক্রামণের আশংকা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি মোজাম্মেল হোসেন মঙ্গলবার রাতে বলেন, সন্ধ্যার পর বাইরে থাকা মানুষগুলো পুলিশের সঙ্গে লুকোচুরি খেলে। পুলিশ গেলে সরে পড়ে, চলে গেলে আবার রাস্তায় বেরিয়ে যায়। বস্তির মানুষরা ঘরের ভেতরে রাখা যায় না, কারণে অকারণে তারা ঘরের বাইরে বের হয়ে আড্ডায় মেরে যায়।

তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ রাস্তায় ও পাড়া-মহল্লায় দায়িত্ব পালন করছে। বিনা কারণে সন্ধ্যার পর বাসার বাহিরে কাউকে পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে সন্ধ্যার পর তার এলাকায় কোনো দোকানপাট খোলা থাকার সুযোগ নেই। কেউ এমন কাজ করলে তাকে থানায় ধরে আনতে তার অধিনস্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিবেন বলেও জানান তিনি।

Comments