গরম পড়লে কি করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমে যাবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক : জান্নাতুল নায়ার ; ঢাকা জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক প্রভাত বাংলা।
অনেকের মধ্যেই একটা ধারণা আছে যে গরম পড়লে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে যাবে। কিন্তু এই ধারণার পেছনে যে খুব শক্ত ভিত আছে সেটা বলা যাবে না। কেননা ভাইরাসটি ইতোমধ্যে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই ছড়িয়ে পড়েছে


কোভিড-নাইনটিন মৌসুমি কোন অসুখ কিনা সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। এর পক্ষে বৈজ্ঞানিক কোন ভিত্তি এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।এ সম্পর্কে প্রকৃত চিত্র পেতে হলে কোনো একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সারা বছর ধরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ওপর নজর রাখতে হবে।কিন্তু সমগ্র পৃথিবীতে ভিন্ন ভিন্ন আবহাওয়ায় ভাইরাসটি কীভাবে ছড়িয়েছে তার ওপর নজর দিলে এবিষয়ে কিছু ধারণা পাওয়া যেতে পারে।ইতোমধ্যে কিছু তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে যে ঠাণ্ডা ও শুষ্ক এলাকাতে এই ভাইরাসটির সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটেছে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে ১০ই মার্চ পর্যন্ত যেসব দেশে করোনাভাইরাসের কমিউনিটি সংক্রমণ (সংক্রমণের উৎস জানা যায় না যেখানে) ঘটেছে সেসব দেশে, যেসব দেশে কম সংক্রমণ হয়েছে, তার তুলনায় গড় তাপমাত্রা কম ছিল।
আরেকটি গবেষণা হয়েছে চীনের একশোটি শহরের ওপর। এসব শহরে ৪০টিরও বেশি কোভিড-নাইনটিন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। ওই গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব এলাকায় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বেশি ছিল সেসব এলাকায় সংক্রমণের হারও কম ছিল।
আরেকটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে যদিও সারা বিশ্বে ভাইরাসটি পাওয়া যাবে, তারপরেও "তুলনামূলকভাবে ঠাণ্ডা ও শুষ্ক জায়গায়" এর প্রকোপ বেশি দেখা যাবে। অন্তত ২৩শে মার্চ পর্যন্ত এরকমটাই দেখা গেছে।
তবে লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন এন্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের একদল গবেষক বলছেন, ভাইরাসটি এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রত্যেকটি অঞ্চলে "সব ধরনের আবহাওয়ার মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে, ঠাণ্ডা - গরম, শুষ্ক - আর্দ্র সব এলাকাতেই।"
দেখা গেছে পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে ফ্লুর মতো অন্যান্য আরো অনেক ভাইরাসের একটা মৌসুমি প্যাটার্ন বা ধরন আছে। তবে বিষুবরেখার কাছাকাছি যেসব ট্রপিক্যাল এলাকা সেখানে এসব ভাইরাসের প্যাটার্ন আলাদা।

#covid19 #coronavirus #bangladesh

Comments